‘ওপারে দেখা হবে, অপেক্ষায় থাকিস!’ নিজের ভীষণ কাছের মানুষকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ অপর্ণা সেন!

গভীর শোকের মধ্যে দিন কাটছে অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন-এর। প্রিয় বোন অনুরাধা লাহিড়ি, যাঁকে পরিবারের সবাই রত্না নামে চিনতেন, তাঁর মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন প্রবীণ শিল্পী। সমাজ মাধ্যমে নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে অপর্ণা লেখেন, “আমার ছোটবেলার সঙ্গী চলে গেল। আমার বোন, যাঁর সঙ্গে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগ করে নিতাম। আমার মধ্যেই রত্নার সব স্মৃতি যত্ন করে রাখব। যত দিন না আবার ওঁর সঙ্গে দেখা হচ্ছে।” বহু বছরের সঙ্গী বোনকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন অনুরাধা। শেষ কয়েক বছর চিকিৎসার মধ্যেই কাটছিল তাঁর জীবন। পরিবারের সকলেই তাঁর পাশে ছিলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। অপর্ণার এই পোস্ট সামনে আসতেই অনুরাগীরাও সমবেদনা জানাতে শুরু করেছেন।

অপর্ণা সেনদের পরিবারে তিন বোন ছিলেন। বড় রীনা, মাঝের রত্না এবং ছোট লক্ষ্মী। তিন বোনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাই আচমকা এভাবে বোনকে হারানোর ধাক্কা সহজে সামলাতে পারছেন না অভিনেত্রী। জানা গিয়েছে, ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ গুরুগ্রামে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অনুরাধা লাহিড়ি। মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অনুরাধার স্বামী মনোজিৎ লাহিড়ি জানান, “আমাদের দুই মেয়ে। ওরা বলল, ‘মাকে নিয়ে গুরুগ্রামে চলে এসো।’ তখনই আমরা চলে আসি গুরুগ্রামে। স্ট্রোক হয়েছিল। ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টায় ও চলে যায়।” পরিবারের সদস্যদের কথায়, শেষ সময়ে মেয়েরাই মা-বাবার দেখাশোনার বড় দায়িত্ব নিয়েছিলেন। গুরুগ্রামেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

মনোজিৎ লাহিড়ি আরও জানান, ২০২২ সালেই প্রথম স্ট্রোক হয় অনুরাধার। সেই সময় থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। এরপর দুই মেয়ে চান, বাবা-মা যেন তাঁদের কাছেই থাকেন যাতে নিয়মিত দেখভাল করা যায়। মনোজিৎ বলেন, “মেয়েরা চেয়েছিল, ওদের কাছে থাকলে সুবিধা হবে দেখাশোনা করতে। তাই ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে মেয়েদের কাছেই আছি আমরা।” বর্তমানে তাঁরা ছোট মেয়ের কাছেই থাকতেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের তরফে সব রকম চেষ্টা করা হলেও ধীরে ধীরে শারীরিক সমস্যা বাড়ছিল। গুরুগ্রামে থাকার ফলে চিকিৎসা ও পরিচর্যার সুবিধা হচ্ছিল বলেই পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতার বাইরে থাকার। এই কঠিন সময়ে পরিবারের সকলে একসঙ্গে ছিলেন।

স্ট্রোকের পরে অনুরাধার শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি পার্কিনসন্স রোগেও ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন অনুরাধা। চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখলেও ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। পরিবার সূত্রে খবর, শেষ কয়েক মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। সেই সময় অপর্ণা সেন ও তাঁর স্বামী কল্যাণ রায়ও নিয়মিত পাশে ছিলেন। মনোজিৎ জানান, কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। সকলের চেষ্টার পরেও শেষরক্ষা হল না। অনুরাধার মৃত্যুতে পরিবারের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ মহলেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

আরও পড়ুনঃ “ছেলের মৃ’ত্যু কি মা সহ্য করতে পারেন?” অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে সকাল থেকে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েছেন মা! আবেগতাড়িত প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী, অঙ্কিতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিলেন বিশেষ উদ্যোগ?

বোনের সঙ্গে অপর্ণা সেনের সম্পর্ক শুধুই আত্মীয়তার ছিল না, ছিল গভীর বন্ধুত্বেরও। ছোটবেলার অসংখ্য স্মৃতি, একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা, পরিবারের নানা মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া, সবটাই আজ স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। তাই সমাজমাধ্যমে তাঁর আবেগঘন বার্তা অনেককেই ছুঁয়ে গিয়েছে। “আমার মধ্যেই রত্নার সব স্মৃতি যত্ন করে রাখব” এই কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে অভিনেত্রীর মানসিক অবস্থা। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর অনুরাধার মৃত্যু হলেও পরিবারের কাছে এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কাছের মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অপর্ণা। পরিবার এখন ব্যক্তিগত সময় কাটাতে চাইছে বলেও জানা গিয়েছে। এই কঠিন সময়ে অনুরাগী ও পরিচিতদের কাছ থেকে সমবেদনার বার্তাও পাচ্ছেন তাঁরা।

You cannot copy content of this page